২০০০ টাকার নোট এখনও অবৈধ নয়, ঘোষণা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের

1st December 2023 3:37 pm Country News
২০০০ টাকার নোট এখনও অবৈধ নয়, ঘোষণা রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের


গত মে মাসে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল, বাজার থেকে ২০০০ টাকার নোট তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু ২০১৬ সালের নোটবন্দির মতো যাতে জনমানসে ‘আতঙ্ক’ না তৈরি হয়, তার জন্য অনেকটা সময়ও দেওয়া হয়েছিল গ্রাহকদের। অতঃপর শুক্রবার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাল, কত ২০০০ টাকার নোট তাদের কাছে জমা পড়েছে। সেই সঙ্গে আরবিআই এ-ও জানিয়েছে যে, ২০০০ টাকার নোট এখনও ‘বৈধ’। তবে তা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জমা দিতে হবে।

চলতি বছরের ১৯ মে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছিল, এ বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ২০০০ টাকার নোট ব্যাঙ্কে জমা দেওয়া যাবে। পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৭ অক্টোবর করা হয়। এই সময়কালের মধ্যে বাজারে থাকা ২০০০ টাকার নোটের ৯৭.২৬ শতাংশ রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা পড়েছে। যে সময়ে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজার থেকে ২০০০ টাকার নোট তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে, তখন বাজারে ছড়িয়ে-থাকা নোটের মোট অর্থমূল্য ছিল ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

২০১৮-’১৯ অর্থবর্ষ থেকেই ২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ করে দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে এখনও এই নোটকে ‘অবৈধ’ বলছে না তারা। কেন? গত ৭ অক্টোবরের পর ৯ অক্টোবর থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন দফতরে ২০০০ টাকার নোট জমা নেওয়া চলছিল। তারা জানিয়েছে, সেই কাজ এখনও চলবে। তার অর্থ কী? ধরা যাক, কারও কাছে এখনও ১০টি ২০০০ টাকার নোট রয়ে গিয়েছে। তিনি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম ফিল আপ করে নোটগুলির নম্বর দিয়ে তা জমা দিতে পারবেন। সেই পরিমাণ টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে তিনি অন্য কোনও অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠাতে (ট্রান্সফার) পারবেন না। ব্যক্তির পাশাপাশি সংস্থার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। টাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থার অ্যাকাউন্টেই জমা পড়বে। অন্য কোনও সংস্থাকে ওই টাকা দেওয়া (ট্রান্সফার) যাবে না।

২০১৬ সালের নভেম্বরে ‘নোটবন্দি’ করে পুরনো ৫০০ টাকা এবং ১০০০ টাকার নোট বাজার থেকে তুলে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। তার পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বাজারে আনে নতুন ৫০০ এবং ২০০০ টাকার নোট। কিন্তু তিন বছর যেতে না যেতেই ২০০০ টাকার নোট ছাপা বন্ধ করে দিতে হয় আরবিআইকে। ২০০০ টাকার নোট জাল হওয়াও শুরু হয় ব্যাপক হারে। তার পরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ‘ক্লিন নোট’ নীতি ঘোষণা করে বাজার থেকে ২০০০ টাকার নোট পুরোপুরি তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।