বিশ্বকাপের ম্যাচ! খাতায়-কলমে তেমনই। খেলা দেখে অন্তত বিশ্বকাপের আঁচ পাওয়া গেল না। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করার পথে ভারতের ব্যাটার, বোলারেরা আয়েশ করে অনুশীলন সেরে নিলেন। বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কাকে ৩০২ রানের ব্যবধানে হারাল ভারত। বিশ্বকাপে নতুন রেকর্ড গড়ল ভারতীয় দল।রানের ব্যবধানে এটাই বিশ্বকাপে ভারতের সব থেকে বড় জয়। এর আগে বিশ্বকাপে ভারতের সব থেকে বড় ব্যবধানে জয় ছিল বারমুডার বিরুদ্ধে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ২৫৭ রানে জিতেছিল অধিনায়ক রাহুল দ্রাবিড়ের ভারত।ওয়াংখেড়ের ২২ গজে খেলা শুরু হওয়ার আগে বিরাট কোহলির নাচ দেখা গিয়েছিল। তিনি বিরাট জয়ের আগাম পূর্বাভাস পেয়ে গিয়েছিলেন? ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠে এই শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মহেন্দ্র সিংহ ধোনির ভারত। ভুল বলা হল, এই শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সেই দলের মিল নেই। মুথাইয়া মুরলিথরন, কুমার সাঙ্গাকারা, লসিথ মালিঙ্গা, তিলকরত্নে দিলশান, অজন্তা মেন্ডিসরা ছিলেন সেই দলে। সেই দলে ছিলেন মাহেলা জয়বর্ধনে এবং অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ। এ বারও তাঁরা রয়েছেন। জয়বর্ধনে রয়েছেন দলের ব্যাটিং পরামর্শদাতা হিসাবে। চোট জর্জরিত শ্রীলঙ্কা শিবির প্রতিযোগিতার মাঝপথে উড়িয়ে এনেছে 'বুড়ো' ম্যাথিউজকে। তা দিয়ে ফর্মে থাকা ভারতীয় দলকে আটকানো সম্ভব ছিল না। শ্রীলঙ্কা পারলও না।শ্রীলঙ্কা ভারতের সেমিফাইনাল যাত্রায় বিঘ্ন ঘটাবে, এমন হয়তো ভাবেননি অধিনায়ক কুশল মেন্ডিসও। তাই বলে এমন অসহায় আত্মসমর্পণ! যে দলের হয়ে এক সময় খেলেছেন অর্জুন রণতুঙ্গা, অরবিন্দ ডি'সিলভা, সনত্ জয়সূর্যের মতো ক্রিকেটার।টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন মেন্ডিস। ঘরের মাঠে রান পেলেন না রোহিত শর্মা (৪)। অধিনায়ক ম্যাচের দ্বিতীয় বলেই আউট হওয়ায় ওয়াংখেড়ের গ্যালারিতে গুমোট নেমে এসেছিল। তা দ্রুত কাটিয়ে দিলেন বিরাট কোহলি, শুভমন গিলেরা। শ্রীলঙ্কার ফিল্ডারদের কার্যত দাঁড় করিয়ে রেখে তাঁদের শট ছুটল বাউন্ডারির দিকে। দর্শক হয়ে দেখতে হল প্রতিপক্ষের বোলারদের। ২২ গজের কোথায় বল ফেললে কোহলি, শুভমনের আগ্রাসনে রাশ টানা যাবে, তা ঠাওর করতেই পারলেন না ।