ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তারিখ

31st January 2026 12:37 pm Global News
ডিআর কঙ্গোতে ভয়াবহ খনি ধস: ২০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা তারিখ


 

স্থান: রুবায়া, উত্তর কিভু প্রদেশ, ডিআর কঙ্গো

আজকের দিনের অন্যতম শোকাবহ সংবাদ এসেছে আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো থেকে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় উত্তর কিভু প্রদেশের রুবায়া (Rubaya) এলাকায় একটি কোলটান খনিতে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২০০ জন মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘটনার বিস্তারিত
গত ২৯ জানুয়ারি, বুধবার থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে খনি এলাকাটির মাটি অত্যন্ত নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল। খনিতে কর্মরত শ্রমিকরা যখন মাটির গভীরে খননকাজ চালাচ্ছিলেন, তখনই হঠাৎ করে ওপর থেকে বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়ে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ধসে পড়া মাটির নিচে শত শত শ্রমিক আটকা পড়েছেন। নিহতদের মধ্যে খনি শ্রমিক ছাড়াও সেখানে উপস্থিত অনেক নারী ও শিশু রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যারা সাধারণত খনির আবর্জনা থেকে ছোটখাটো খনিজ সংগ্রহ বা খাবার বিক্রির জন্য সেখানে অবস্থান করছিল।

উদ্ধার অভিযান ও চ্যালেঞ্জ
দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকিও রয়েছে, যা উদ্ধারকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবীরা মাটি সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন, তবে সময়ের সাথে সাথে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রেক্ষাপট ও খনিজের গুরুত্ব
দুর্ঘটনাকবলিত রুবায়া খনিটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান কোলটান (Coltan) উৎপাদনকারী এলাকা। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি তৈরিতে কোলটান একটি অপরিহার্য উপাদান।

তবে এলাকাটি বর্তমানে এম২৩ (M23) বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্রোহীরা তাদের অস্ত্র ও যুদ্ধের খরচ মেটাতে এই খনিজ সম্পদ অবৈধভাবে উত্তোলন ও পাচার করে আসছে। খনিগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তাদের কাজ করতে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের মতে, এই অবৈধ খনিজ ব্যবসাই এই অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে বিশ্বজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো খনি শ্রমিকদের, বিশেষ করে শিশুশ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় খনিজ সম্পদের অবৈধ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।





Others News

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |


বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় খবর হলো ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া প্রত্যক্ষ সংঘাত। গত কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর আজ পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে এখন শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা।

১. ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু

আজকের সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর খবর হলো ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিমানি-র মৃত্যু। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ইরান নিশ্চিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে "শহীদত্ব বরণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

২. উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজ ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের আকাশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৩. ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত

ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেল আবিবের নিকটবর্তী রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে, তারা অত্যাধুনিক 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' ব্যবহার করে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

৪. বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

  • জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

  • দক্ষিণ এশিয়া: শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যেই ৪ দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতেও রান্নার গ্যাস (LPG) সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

৫. বিশ্বশক্তির অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র একাই সক্ষম এবং এ কাজে ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের নজর সরে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।


দ্রষ্টব্য: পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।