পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা, শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

24th December 2024 9:59 am Country News
পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা, শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন


শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন: পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে ফিরছে পাশ-ফেল প্রথা

কলকাতা: স্কুল শিক্ষায় ফের আসছে বড় পরিবর্তন। কেন্দ্রীয় সরকার পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পাশ-ফেল প্রথা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোমবার সরকারি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এই নিয়মের ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক। শিক্ষার অধিকার আইনে সংশোধনী এনে এই প্রথা চালু করা হচ্ছে।

এখন থেকে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। যদি কোনও ছাত্র ফেল করে, তাহলে তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়া হবে। ফেল করা শিক্ষার্থীরা দুই মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষায় বসতে পারবে। দ্বিতীয় পরীক্ষাতেও ফেল করলে, ওই শিক্ষার্থীকে ওই শ্রেণিতেই আরও এক বছর পড়াশোনা করতে হবে। স্কুলগুলোর দায়িত্ব হবে যে, ফেল করা ছাত্রদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া, যাতে তাদের শিক্ষাগত ত্রুটি চিহ্নিত করে তাদের জন্য বিশেষভাবে পড়াশোনা পরিচালিত হয়।

এই নিয়মটি প্রথমে কেন্দ্রীয় সরকারি স্কুলগুলিতে কার্যকর হবে, তবে রাজ্য সরকারি স্কুলগুলির জন্য এটি বাধ্যতামূলক হবে কিনা, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

শিক্ষাবিদরা এই নতুন নিয়মে নানা প্রশ্ন তুলছেন। বিশেষজ্ঞ অভীক মজুমদার জানান, পড়ুয়াদের অকৃতকার্য হলে অনেক সময় তারা বিপথগামী হয়ে শিশু শ্রমিকের দিকে চলে যেতে পারে, যা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে দিতে পারে। তিনি মনে করেন, শিক্ষার মূল স্রোত থেকে পড়ুয়াদের বিচ্ছিন্ন করা উচিত নয়, বরং তাদের অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।

এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দিক উন্মোচিত হচ্ছে, তবে এর কার্যকারিতা এবং সামাজিক প্রভাব নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।