এখনকার দিনে মনের মানুষ বা সঙ্গী খুঁজে পেতে তরুণ প্রজন্মের একাংশের ভরসা অনলাইন ডেটিং প্ল্যাটফর্মগুলি। ফলত Tinder, Happn, Bumble ইত্যাদি অ্যাপ এখন স্মার্টফোনের স্ক্রিনে জায়গা করে নিয়েছে। আর যেহেতু ভ্যালেন্টাইন্স ডে একেবারে সামনে এসে পড়েছে, সেই কারণে এগুলির ব্যবহারও তুঙ্গে পৌঁছেছে।এমতাবস্থায় আপনিও যদি ভালোবাসার দিনটি বিশেষ করে তোলার জন্য কোনো ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতে উদ্যোগী হন, তাহলে কিন্তু আপনার খানিক সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এমনিতে এই ধরণের অ্যাপগুলিতে যাদের সাথে পরিচয় বা দেখা-সাক্ষাত হয়, তাদের প্রত্যেকেই যে সঠিক লোক তা নয়! অন্যদিকে এখন ডেটিং অ্যাপ স্ক্যাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে - মানুষজন এখন এইসব প্ল্যাটফর্মে ইমেজ ম্যানিপুলেট করতে এবং অন্যদের প্রতারিত করতে AI ব্যবহার করছে। সাইবার সিকিউরিটি প্ল্যাটফর্ম McAfee-র সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, ৯০ শতাংশেরও বেশি ভারতীয় ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে ভুয়ো প্রোফাইলের মুখোমুখি হয়েছেন।
অনলাইন ডেটিংকে প্রভাবিত করছে AI, কী বলছে McAfee?
ডিজিটাল প্রোটেকশনের বিষয়ে সহায়তাকারী প্ল্যাটফর্ম ম্যাকাফি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুলগুলি কীভাবে স্ক্যামের হাতিয়ার হয়ে উঠছে, তা দেখেছে। তারা ভারতসহ সাতটি ভিন্ন দেশে ৭ হাজার জন মানুষের ওপর সার্ভে চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে যে অনেকেই এখন ওয়েবসাইট বা সোশ্যাল মিডিয়াতে নকল প্রোফাইল বা ছবি দেখেছেন/দেখছেন। এক্ষেত্রে প্রায় ৯৮ শতাংশ ভারতীয় বিষয়টি নিশ্চিত করে ভুয়ো প্রোফাইলগুলি দেখার কথা জানিয়েছেন, যেখানে ৩৯ শতাংশ বলেছেন যে তারা প্রেমের ফাঁদ পেতে থাকা স্ক্যামারদের সাথে কথাও বলেছে। এই সমস্যাটি বেশি জটিল হয়েছে, কারণ কিছু স্ক্যামার বিশ্বাসযোগ্য মেসেজ এবং ছবির জন্য এআই টুল ব্যবহার করছে - আবার সমীক্ষায় প্রায় ৬৫ শতাংশ ভারতীয়ই নিজের ডেটিং প্রোফাইলের জন্য ছবি বা অন্যান্য কন্টেন্ট তৈরি করতে এআই ব্যবহার করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। সব মিলিয়ে ডেটিং অ্যাপে কেউ আসল কিনা তা বোঝা সম্ভব হচ্ছেনা, একইসাথে নানা বিরক্তির কারণও (যেমন মেশিনের মাধ্যমে ভালোবাসার মেসেজ লেখা) উদ্ভূত হচ্ছে।